বৃহস্পতিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১১

Elliot Wave Principle

Elliot Wave এর প্রত্যেকটি Wave এর এক একটি স্বকীয় বৈশিষ্ট্য আছে। আর ওই বৈশিষ্ট্য গুলো Wave Principle এর প্রায়োগিক দিক টাকে নিয়ন্ত্রণ করে। নিচে Bull Market এর Wave principle গুলো বর্ণনা করা হল ঃ

১। Wave 1: Wave 1 তার প্রারম্ভে কদাচিৎ দৃশ্যমান । অর্থাৎ শুরু হলে এটা বুঝা যায় না । যখন নুতন Bull Market এ Wave 1 শুরু হয় তখন Fundamental News গুলো প্রায়ই Negative থাকে । এক্ষেত্রে পূর্বের Trend কে তখনও সবল মনে হয় । তবে এই সময় Volume এবং Price একটু একটু করে বাড়লেও তা সচরাচর Technical Analyst দের দৃষ্টি এড়িয়ে যায় । এর করন হিসেবে অনেকেই মনে করেন যে Price / Volume বৃদ্ধির হার অতি নগণ্য ।

২। wave 2 : Wave 2 Wave 1 কে কারেকশন করে ঠিকই কিন্তু কখনই তা Wave 1 এর প্রারম্ভিক মূল্যের নিচে যেতে পারে না । সচরাচর ওই সময়ও Fundamental News গুলো Negative থাকে । যেহেতু Price আবার নিম্নমুখী হতে থাকে তাই অনেকেই মনে করেন আবার বুঝি Bearish Trend শুরু হল । কিন্তু কিছু Positive Sign লক্ষণীয় যেমন Wave 1 এর Volume থেকে Wave 2 এর Volume হ্রাস পেতে থাকে এবং Wave 1 যে Price gain করেছিলো তা থেকে ৬১.৮% (Fibonacci level) এর বেশি হ্রাস পায় না ।

৩ । Wave 3 : Wave 3 হচ্ছে সাধারনতঃ সবচেয়ে বড় এবং শক্তিশালী Wave যদিও কিছু গবেষণায় দেখা যায় যে Commodity মার্কেটে Wave 5 হচ্ছে সবচেয়ে বেশি বড় এবং শক্তিশালী । এ পর্যায়ে Fundamental News গুলো Positive হতে থাকে এবং সাথে সাথে Price ও দ্রুত বাড়ে। মূল্য সংশোধনী অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী এবং অতি অল্প । এই  সংশোধনীর সময় যদি কারও Buy Back এর ইচ্ছা থাকে তাহলে সেই সুযোগ সচরাচর পাওয়া যায় না কারন ওই সংশোধনী অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী । মজার ব্যাপার হল Wave 3 শুরুর প্রাক্কালে Fundamental News গুলো Negative থাকে এবং Trader রাও Negative থাকেন কিন্তু Wave 3 এর মধ্যভাগে এসে অনেক বিনিয়োগকারী এই নুতন Trend এ অংশগ্রহন করেন। Wave3  Wave 1 এর তুলনায় প্রায়ই ১.৬১৮ গুন বেশি বাড়ে । অর্থাৎ উভয়ের অনুপাত ১.৬১৮ :১ ।





৪। Wave 4 : Wave 4 হচ্ছে সংশোধনীর (Correction) স্তর । Price একটু আধটু পাশাপাশি (Sideways) চলতে পারে তবে দাম নিম্নমুখী হলেও তা Wave 3 এর চেয়ে ৩৮.২% (Fibonacci) এর কম । এককথায় বলা যায় Wave 4 একটি মূল্য সংশোধনীর স্তর যেখানে Volume Wave 3 এর তুলনায় কম থাকে। Wave 4 যেহেতু মূল্য  সংশোধনীর স্তর তাই এই স্তর থেকে আবার Buy Back করা যায় যদি আমরা Wave 5 সংঘটন এর ব্যাপারে আশাবাদী থাকি তাহলে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এই Wave 5 আবার হতাশাবাঞ্জক , বিশেষ করে Commodity মার্কেটে । যা হোক আমাদের আলোচনা মুলত Stock Market নিয়ে তাই চলুন দেখা যাক Wave 5 বেলায় কি হয় ।

৫। Wave 5 : Wave 5 হল এই চলমান Trend এর সর্বশেষ স্তর । এ স্তরে এসে সব ধরনের News ইতিবাচক (Positive) থাকে , সঙ্গে বাজারের কেউ আর জানতে বাকি থাকে না যে এখানে বিনিয়োগ করলেই লাভ হবে । তাই Wave 5 এর Top পর্যন্ত উঠার ঠিক আগেই সর্বস্তরের বিনিয়োগকারীরা Buy করেন এবং অনেকেই আছেন যারা Wave 5 এর টপ Price এও buy করে নিয়ে বসে থাকেন এবং দুর্ভাগ্যবশত ওই Level মানে Wave 5 এর Top এ আটকে যান। Wave 5 যে তার টপে পৌঁছে গেছে তা সনাক্ত করতে গেলে আমাদেরকে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে Volume এর দিকে । লক্ষ্য করলে দেখা যাবে Wave 3 এর Volume এর তুলনায় Wave 5 এর Volume হ্রাস পাচ্ছে । আর একটা বিষয়ও মাথায় রাখতে হবে, অনেক Momentum ইনডিকেটর এসময় Divergence ( বিপরীতমুখীতা ) প্রদর্শন করে । যেমন , দাম নুতন উর্ধমুখী (New High) স্তরে পৌঁছালেও ইনডিকেটর আর কোনো নুতন উর্ধমুখিতা (New High)  সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয় । এই Bull মার্কেটের পরিসমাপ্তি এখানেই । সুতরাং Wave 5 এর Divergence দেখলেই Trade ক্লোজ করা উচিত ।
পরবর্তী স্তর গুলোমুলত Corrective  যেমন A,B,C -  Bear Market । নিচে এগুলোর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেয়া হল ঃ

Wave A : প্রাথমিক স্তরে কারেকশনটা সনাক্ত করা একটু কঠিন কারন Fundamental News গুলো তখনও Positive থাকে, মার্কেট Volatile থাকে আর সবচেয়ে সমস্যা সৃষ্টি করে Volume, যা তখনও বৃদ্ধি পেতে থাকে। অনেক Analyst রা এটিকে কারেকশন মনে করতে থাকেন ।

Wave B : দাম আবার বৃদ্ধি পেতে শুরু করে যা দেখে অনেকেই মনে করেন Market আবারও আগের ( Wave 5 )  মতো Bullish হতে চলেছে । যারা Classical Technical Analysis এর সঙ্গে পরিচিত তারা এটিকে “Head and Shoulder Reversal Pattern” এর right shoulder মনে করতে পারেন। কিন্তু না , এই সময় Volume Wave A এর চেয়ে কম থাকে তাই Wave B কে আরও Bullish মার্কেটের পুর্বাভাস মনে করার কোন কারন নেই ।

Wave C : দাম দ্রুত পড়তে থাকে তার সাথে আবার Volume ও বাড়তে থাকে । এই আলোচ্য Wave C এর শেষ পর্যায়ে কারও আর বুঝতে বাকি থাকে না যে একটি পুরোপুরি Bear মার্কেটে তারা Trade করছেন । Wave C এর Price Level  Wave A থেকে কমপক্ষে ১.৬১৮ গুন নিচে নামে ।

সার কথাঃ
Price এক লাফেই কোন Wave এ পৌঁছায় না , লক্ষ্য করুন চিত্রের তৃতীয় লাইনে অনেকগুলো ধাপ পার হয়ে দাম ২১ লেভেলে , দ্বিতীয় লাইনে কয়েকটি ধাপ পার হয়ে ৫ লেভেলে এবং প্রথম লাইনে এক ধাপে ১ লেভেলে উন্নীত হয়েছে । অর্থাৎ Market Noise কে এড়ানোর জন্য আমরাও ধাপে ধাপে ১ নং লাইনে যাই । অনুরূপ ভাবে প্রত্যেকটি Wave তার Market Noise (দামের উঠানামা) কে এড়িয়েই চুড়ান্ত ধাপে উন্নীত হয়।

বুধবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১১

Trend Spotting


Trend Spotting (পর্ব-১)

 

যখন দুইজন যোদ্ধা যুদ্ধক্ষেত্রে মিলিত হয়, তখন শুধু বোকা যোদ্ধাই কেবল কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু বুদ্ধিমান যোদ্ধা একটি পরিকল্পনা নিয়েই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে থাকে। ঠিক তেমনি আপনারও উচিত, একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা। আর সেই জন্য আপনাকে বাজারের গতিবিধি বা ট্রেন্ড বুঝতে হবে। বাজারে সাধারণত তিন ধরনের ট্রেন্ড পরিলক্ষিত হয়। এগুলো হচ্ছে ১. আপ ট্রেন্ড, ২. ডাউন ট্রেন্ড, ৩. রেঞ্জিং। আজ আমরা দেখব Trending Market কী এবং এই বিষয়টি কীভাবে আপনার কাজে আসবে। Trending Market হচ্ছে একটি মার্কেট, যখন নির্দিষ্ট ট্রেন্ডে অনেক দিন যাবৎ চলতে থাকে। চিত্র লক্ষ করুন ও দেখুন একটি পরিষ্কার ডাউন ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে। তার মানে আমরা এই ট্রেন্ডটিকে Trending বলতে পারি। কারণ, অনেক দিন যাবৎ এই ট্রেন্ডটি অব্যাহত ছিল। আপনি আপ ট্রেন্ড  বুঝতে পারবেন, যখন ‘higher highs’এবং  ‘higher lows’ দেখতে পাবেন এবং ডাউন ট্রেন্ড বুঝবেন ‘lower highs’ ও ‘lower lows’ দেখে। 
আপনি এই Trending মার্কেটেও Moving Average টুলসটি ব্যবহার করতে পারেন। আপনি ৭ দিন, ২০ দিন এবং ৬৫ দিনের  Simple Moving Average (SMA) নিতে পারেন। একটু ভালোভাবে লক্ষ করুন, যখন ওপর দিক থেকে ৭ দিনের SMA ২০ দিনের SMA কে অতিক্রম করে এবং ২০ দিনের SMA ৬৫ দিনের কে অতিক্রম করে, তখন মূল্যর trending up সংগঠিত হয়। আবার ঠিক উল্টোভাবে যখন নিচের দিক থেকে ৭ দিনের SMA ২০ দিনের SMA কে অতিক্রম করে এবং ২০ দিনের SMA ৬৫ দিনের কে অতিক্রম করে, তখন মূল্যর trending down সংগঠিত হয়। চিত্রে ঠিক এই বিষয়টিই দেখানো হয়েছে। আগামীকালের টিউটোরিয়াল কর্নারে আমরা Ranging Market নিয়ে আলোচনা করব।

টিউটোরিয়াল কর্নার





  
TrendSpotting(পর্ব-২)

গতকালের টিউটোরিয়াল কর্নারে আমরা Trending Market  বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি এবং আজ আমরা ranging নিয়ে আলোচনা করব। ranging হচ্ছে, একটি মার্কেট যখন নির্দিষ্ট রেঞ্জের মধ্যে বারবার ওঠানামা করে এবং রেঞ্জটির আওতা হচ্ছে মূল্যর উচ্চসীমা এবং মূল্যের নিম্নসীমা। বারবার মার্কেট এই রেঞ্জের মধ্য ওঠানামা করে বিধায় এটিকে ranging বলা হয়। চিত্রে একটু লক্ষ করলে দেখতে পাবেন, শেয়ারটির দাম একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ওঠানামা করে। কিন্তু সেই রেঞ্জটি ব্রেক করতে পারেনি। এ ধরনের বাজারে বুদ্ধিমান বিনিয়োগকারীরা low price  লেভেলে শেয়ার ক্রয় করেন এবং high price লেভেলে বিক্রি করেন। এই ranging মার্কেটেও আপনি Stochastic এবং RSI Indicator ব্যবহার করতে পারেন। আবারও চিত্রে দেখুন, আমরা Stochastic ব্যবহার করেছি।
এই টুলটি ব্যবহার করা হয়েছে বাজারে overbought এবং oversold চিহ্নিত করার জন্য। খেয়াল করুন, যখন শেয়ারটির দাম ওপরের লেভেলটি ব্রেক করতে পারেনি, তখন দেখুন Stochastic-টিও overbought অবস্থায় ছিল। এ কারণে শেয়ারটির দাম কমে যায়। ঠিক একইভাবে নিচের দিকের লেভেলও ব্রেক করতে পারেনি এবং সেই সময় Stochastic-টিও oversold অবস্থায় ছিল। সুতরাং, আপনি কিন্তু এই পদ্ধতিতে আপনার Entry এবং Exit-এর সময় নির্ধারণ করতে পারবেন। আপনি যখন trending অথবা ranging মার্কেটে ট্রেড করবেন, তখন আপনার ধারণা থাকা উচিত, কী পরিমাণ মুনাফা অথবা লোকসান হতে পারে। এরপর আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে tops এবং bottoms যেটিtrending ranging এবং উভয় মার্কেটের জন্য প্রযোজ্য। আপনি যদি এই trending এবং ranging সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখেন, তবে আপনি আপনার বিনিয়োগ-কৌশল খুব সহজেই ঠিক করতে পারবেন এবং বিনিয়োগ ঝুঁকি অনেক কমিয়ে আনতে পারবেন।

Trend Spotting (শেষ পর্ব)





আজ আমরা Trend Spotting-এর সারসংক্ষেপ এবং ট্রেন্ড চিহ্নিত করার কৌশল নিয়ে আলোচনা করব। সঠিকভাবে retracements এবং reversals চিহ্নিত করতে সক্ষম হলে একজন বিনিয়োগকারী বেশি মুনাফা অর্জন করতে পারেন। এখন আমরা এই retracements ও reversals সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে কিছু শর্টকাট টেকনিক শিখে নিব। প্রথমে আসা যাক retracements বিষয়ে।
১. Retracements সাধারণত একটি লম্বা সময় মূল্য-পরিবর্তনের পর সংগঠিত হয়। ২. এই retracements-টি খুব সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য reversals হয়। ৩. Fundamental কোনো বিষয় পরিবর্তন হয় না। ৪. আপ ট্রেন্ডে সেই সময় ক্রয়চাপ থাকে এবং একটি মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী রেলি তৈরি হয় এবং ডাউন ট্রেন্ডে বিক্রয়চাপ বেশি হয় এবং মূল্য কমতে থাকে।
অন্যদিকে ১. reversals যেকোনো সময়ই ঘটতে পারে। ২. একটি লম্বা সময়ের জন্য এই reversals সংগঠিত হয়ে থাকে। ৩. অনেক সময় Fundamental  বিষয়গুলোও পরিবর্তন হয়ে থাকে, ফলে একটি লম্বা সময়জুড়ে reversals হয়ে থাকে। ৪. আপ ট্রেন্ডে তেমন ক্রয়চাপ পরিলক্ষিত হয় না এবং ডাউন ট্রেন্ডেও খুব কম বিক্রয়চাপ দেখা যায়। একজন বিনিয়োগকারী Fibonacci retracement ব্যবহার করে retracement লেভেলগুলো বুঝতে পারবেন। Fibonacci এর বিভিন্ন লেভেল সাধারণত support এবং resistance হিসেবে কাজ করে থাকে। শেয়ারের দাম যদি retracement  এর যেকোনো লেভেল থেকে Bounce করে, তবে বুঝতে হবে সেটি হবে retracement এবং যদি Bounce  না করে ব্রেক করে, তবে সেটি reversal বলে বিবেচিত হয়। আবার অনেক সময় একটি ট্রেন্ড লাইন দিয়েও reversal বুঝা যায়। যখন দেখা যায়, একটি ট্রেন্ড লাইন ব্রেক করে ওপরে অথবা নিচে যায়, তখন বুঝতে হবে একটি শক্তিশালী reversal ট্রেন্ড তৈরি হয়েছে। আপনি এই পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করতে পারেন একটি retracements এবং reversals সংকেত চিহ্নিত করার জন্য।


চার্ট প্যাটার্নের সারসংক্ষেপ




আমরা ইতোমধ্যে টিউটোরিয়াল কর্নারে বেশি কিছু pattern নিয়ে আলোচনা করেছি। কিন্তু অনেক বিনিয়োগকারীই মাঝেমধ্যে সব pattern বুঝতে কিছুটা সমস্যার সম্মুখীন হন বিধায় আজ আমরা আবার সব কটি pattern-এর সারসংক্ষেপ তুলে ধরব। আমরা অনেকেই জানি, প্রধানত ছয়  ধরনের pattern বহুল ব্যবহৃত। সেগুলো হচ্ছে ১. Double Top, ২. Double Bottom, ৩. Head and Shoulders, ৪. Inverse Head and Shoulders, ৫. Rising Wedge, ৬. Falling Wedge। এই pattern-গুলো আপট্রেন্ড এবং ডাওন ট্রেন্ড উভয়  ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
আপনাদের বুঝার সুবিধার জন্য চিত্রে সব কটি চার্ট pattern দেওয়া হয়েছে। এখন আমরা দেখব, কোন চার্ট pattern কী সংকেত বহন করে।
ওপরের সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকে আমরা সহজেই বুঝতে পারি,  কোন চার্ট pattern কী সংকেত বহন করে থাকে। এতে করে আমরা অনেক কম সময়ে খুব সহজেই চার্ট pattern-গুলোর সিগন্যাল ধরতে পারব। শুধু তা-ই নয়, কখন শেয়ার ক্রয় এবং বিক্রয় করতে হবে, সেই বিষয়গুলোও চিত্রে দেখানো হয়েছে।  টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিসের সফলতা অনেকটা অনুশীলনের ওপর নির্ভর করে। আপনি যত বেশি এ বিষয়টি অনুশীলন করবেন, ঠিক ততই অভিজ্ঞ হয়ে উঠবেন এবং খুব সহজেই এই চার্ট pattern-গুলো ধরতে পারবেন। অনুশীলন করার জন্য আপনি স্টক বাংলাদেশের ওয়েবসাইটটি ব্যবহার করতে পারেন। ওয়েবসাইটে আপনি গত কয়েক মাস বা বছরের চার্ট নিয়ে pattern-গুলো বুঝতে চেষ্টা করুন এবং ওপরের তালিকা এবং চিত্রের সঙ্গে  মেলাতে চেষ্টা করুন। এভাবে অনুশীলনের মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই বিভিন্ন চার্ট pattern বুঝতে পারবেন।

রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১১

Parabolic SAR


Parabolic SAR














আজ আমরা দেখব কীভাবে একটি চার্টে Parabolic SAR ইন্ডিকেটর, RSI এবং Stochastics oscillator যুক্ত করে কাজ করা যায়। প্রথমে জানতে হবে, Parabolic SAR ইন্ডিকেটর কী। Parabolic SAR ইন্ডিকেটর হচ্ছে- এমন একটি Indicator, যেটা Assets-এর Momenterm নির্দেশ করে এবং যখন Momenterm-এর দিকপরিবর্তনের সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। তার মানে হচ্ছে, upward অথবা dwonward-এ যাবার সম্ভাবনা। মাঝেমধ্যে অনেকে Stop and Reversal System-ও বলে থাকে। নিম্নের একটি চার্টে আমরা Parabolic SAR ইন্ডিকেটর, RSI ও Stochastics oscillator যুক্ত করেছি। ইতোমধ্যে আপনারা জেনেছেন, যখন RSI ও Stochastics তাদের oversold স্থল ত্যাগ করা শুরু করে, তখন তা buy সিগন্যাল হিসেবে কাজ করে এবং যখন RSI ও Stochastics তাদের overbought স্থল ত্যাগ করা শুরু করে, তখন তা buy সিগন্যাল হিসেবে কাজ করে।
এখানে আমরা HR Textile-এর একটি উদাহরণ দিচ্ছি। ০৩.০৩.২০১১ তারিখে আমরা buy সিগন্যাল পেয়েছি। তার আগে যদি আমরা ভালোমতো লক্ষ করি তবে দেখতে পাব, RSI ও Stochastics oscillator-টি oversold অবস্থায় ছিল এবং buy সিগন্যাল দিচ্ছিল। এই তিনটি ইন্ডিকেটরে buy সিগন্যাল পরপর সংঘটিত হয়েছে এবং এটি একটি ভালো ট্রেড হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
আবার ০৩.০৪.২০১১ তারিখে আমরা দেখতে পাই RSI ও Stochastics oscillator-টি overbought অবস্থায় ছিল এবং Parabolic SAR-ও Downtrend-এ ছিল। আমরা যদি এই তিনটি Indicators এক সঙ্গে ব্যবহার করি, তবে পরিষ্কার sell Signal পাই । আবার যদি আমরা May মাসের দিকে লক্ষ করি তবে আবারও RSI ও Stochastics oscillator-টি oversold অবস্থায় দেখতে পাই এবং আবার Buy সিগন্যাল পাই। সুতরাং যখন কোনো oscillator দীর্ঘ সময় overbought বা oversold অঞ্চলে অবস্থান করলে ধরে নিতে হবে, তখন নতুন একটি সুদৃঢ় ট্রেন্ড সৃষ্টি হচ্ছে। উপরোক্ত উদাহরণে দেখতে পাই, যেহেতু Stochastics দীর্ঘ সময় নিয়ে oversold অঞ্চলে অবস্থান করছিল, তারপর একটি সুদৃঢ় Uptrend সৃষ্টি হয়েছিল। আবার যখন overbought অঞ্চলে অবস্থান করছিল, তখন একটি সুদৃঢ় Downtrend সৃষ্টি হয়েছিল ।


On Balance Volume (OBV) :


On Balance Volume (OBV) :


 










১৯৬৩ সালে Joe Granville রচিত ‘Granville’s New Key to Stock Market Profits’ বইতে তিনি On Balance Volume   ইন্ডিকেটরটিকে পরিচিত করেন। এটি প্রথম এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় indicator, যা পজিটিভ ও নেগেটিভ volume-এর মাত্রা পরিমাপ করে। এর পেছনে যে ধারণা কাজ করে, তা হচ্ছে দামে পরিবর্তন ঘটলে Volume-এ তার প্রভাব পড়ে। OBV একটি সাধারণ ইন্ডিকেটর যখন  সমাপ্তিমূল্য শীর্ষে থাকে, তখন একটি নির্দিষ্ট সময়ের volume যুক্ত করা হয় এবং যখন সমাপ্তিমূল্য নিম্নে থাকে, তখন একটি নির্দিষ্ট সময়ের volume বাদ দেওয়া হয়। একটি ক্রমবর্ধমান volume-এর সমষ্টি, যা যোজন ও বিয়োজনের মাধ্যমে OBV Line  সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে OBV Line অথবা একটি শেয়ার সম্পর্কে সঠিক তথ্য পেতে এই রেখটিকে (OBV) price chart-এর সঙ্গে তুলনা করা হয়।  
এই indicator-এর পেছনে যে ধারণা কাজ করে, তা হচ্ছে দামের পরিবর্তনে OBV-এর পরিবর্তন সংঘটিত হয়। একটি বর্ধিত volume দ্বারা আমরা বুঝতে পারি, একটি শেয়ারে কী পরিমাণ অর্থের জোগান রয়েছে। যখনই লোকজন direction অনুসরণ করবে, তখনই একটি শেয়ারের দাম বাড়তে থাকবে। অন্যান্য ইন্ডিকেটরের মতো OBV ইন্ডিকেটরের নির্দিষ্ট দিক আছে। একটি উঠতি (bullish) OBV  রেখা  ঊর্ধ্বমুখী বাজারে volume-এর আধিক্য নির্দেশ করে। যদি এর সঙ্গে দামও বাড়তে থাকে; তবে OBV  নিশ্চিত uptrend-এর সংকেত দেয়। এই ক্ষেত্রে, দাম বেড়ে যাওয়া মানে একটি শেয়ারের চাহিদা বেড়েছে, যা একটি সুনির্দিষ্ট uptrend-এর জন্য প্রয়োজন।
যাহোক, যদি দাম বাড়তে থাকে এবং volume  নিচের দিকে নেমে আসে সেক্ষেত্রে নেগেটিভ divergence সৃষ্টি হয়। এই divergence আমাদের অনির্দিষ্ট uptrend এবং এই ট্রেন্ড যে ক্ষণস্থায়ী, সে সম্পর্কে সর্তক করে।  OBV-এর নিউমারিক্যাল ভ্যালু ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, যতটা এর গতি কী হবে- তা বিবেচ্য। ব্যবহারকারী শুধুমাত্র OBV-এর ট্রেন্ড লক্ষ্য করবে এবং শেয়ারের দামকে পর্যবেক্ষণ করবে, যা এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।

সূত্রঃ স্টক বাংলাদেশ